ভোর সাড়ে ৬টা। নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার মালকান্দি গলিতে দীর্ঘ লাইন। অপেক্ষার প্রহর গুণছেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী পুরুষ। কখন ট্রাকে করে ওএমএস এর চাল ও আটা আসবে তা নেওয়ার জন্য। এখানে শুধু নিম্নবিত্তের মানুষ নয় ইদানিং মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরাও লাইনে সংযুক্ত হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে মানুষকে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাসসহ প্রতিটি পণ্যের দাম নাগালের বাইরে। সংসার চালতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে ওএমএসের লাইন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার নাইটগার্ড আব্দুল মোতালিব জানান, ‘সারারাত সেখানে ডিউটি পালন করেছি। ভোর রাতে বাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় চাল শেষ হয়ে গেছে। তাই বাড়িতে ফেরার পথে ভোর ৬টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখানে অনেক লোকের সমাগম হয়। কিন্তু আগে না আসলে দেরি করে মাল নিতে হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘সারামাস কঠোর পরিশ্রম করে ৮ হাজার টাকা বেতন পায়। সেই বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া বাজারে এককেজি ভালো মানের চাল ৯০ টাকার নিচে নয়। আর ৬০ টাকা যোগ করে ৫ কেজি চাল পাওয়া যায়। যা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চারদিন পার হয়ে যায়। সাথে রয়েছে ৫ কেজি আটা। ৩০০ টাকা দিয়ে পুরো সংসার চলে যায়।’
পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা মোঃ বাবুল জানান, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ায় জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কিছুটা কম দামে খোলা বাজারের (ওএমএস) চাল পেতে নিরুপায় হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আগে ভাল চাল কিনতাম কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় ৩০ টাকা কেজিতে চাল কিনছি।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে এ লাইন। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ক্রেতা বেশি হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না। চাল না পেয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এখানে এক টন দিচ্ছেন ডিলার। শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে ৩০ টাকার চাল বিক্রি করা হয়।’
ডিলার জুয়েল জানান, ‘প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়। আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে জনপ্রতি ৫কেজি চাল ও ৫কেজি গমের আটা ৩০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ১ টন চাল ও ১ টন আটা ট্রাক সেলের মাধ্যমে মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।’
বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে কয়েকজন রয়েছেন মার্জিত পোশাকের। লোকলজ্জায় নারীদের কেউ কেউ ওড়না দিয়ে আবার কেউ কেউ শাড়ির আঁচল এবং পুরুষরা মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জানান, তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের। নিরুপায় হয়ে তারা ওএমএসের দোকানে চাল কিনতে এসেছেন।
ডিলার জুয়েল বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে, লাইনও দীর্ঘ হচ্ছে। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।’
খুলনা গেজেট/এনএম

